সার্চ করুন

শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৭

ঐন্দ্রিলা মহিন্তা


তিনটি কবিতা

#----------খনিজ

ভোররাতের গোলাপ । বৃষ্টিঘুঙুর জড়ানো । হাতে গুপ্তধনের চাবি । ম্যাপ মরুভূমিতে শায়িত । স্কুটার চালিয়ে বার বার ঘুরে আসি ;
তবু তাদের দেখা মেলে না ॥

কালগর্ভ চিরে আর্তনদের দলাপাকানো জটলা । একটা মরে যাওয়া দুঃখ মদের গ্লাস টেনে নেয় ॥

মরুভূমির ড্রয়ারগুলো হন্টেড । তাদের কবর খুঁড়ে চিঠিগুলো টেনে বার করে কুড়োতে থাকি !
..............এক...........দুই.........॥

এতদিনে চিঠিগুলো জাতে উঠলো । শুকনো গোলাপকে  পাখনা মেলে উড়তে দেখে মৃত ড্রয়ারগুলো চোখ মোছে ॥

শতাব্দী পেরিয়ে আত্মজা খনিজের হাউই চরে , সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসে.....  চশমার কাচ ঝাপসা হয় তাদের ফর্মেশনে ॥

             

#----------লুপ্তযুগ

ছাদ থেকে একটা করে বর্ষা চুঁইয়ে পরে ,
আর একটা করে যুগাবসান দেখে চলি !
আমার চোখ চেপে ধরে কানে গুপ্তমন্ত্র
ঢেলে দাও ; লবণাক্ত সমুদ্র ঢেউয়ের
শব্দ যাতে শুনতে না পাই : নিকষ
অন্ধকার করে যে চড়ুই ঘরে উড়তে
থাকে , তার প্রত্যেকটা পালকে আমাদের
সমুদ্র-স্নান লিখে রাখো ! ক্লান্ত ডানা ঝাপটিয়ে
বাড়ির ছাদে নিজের কঙ্কাল দেখে আসে ......
না ! আজ সে বড় ঋনী তোমার কাছে ;
গোপনীয়তার সেলুলোজ ছিঁড়ে তাকে
আর পেটভর্তি সান্তনা খেতে হবে না ,

লুকিয়ে দেখেছি :
তখনও তোমার চোখে মৃত যুগগুলি বন্দি ॥
       
           

#----------কন্টিনিউয়েশন

১.
রোজ ভরদুপুরে ঝোলা কাঁধে বেরিয়ে পড়ি ; একটা
করে গলি , আবিষ্কারি মণির ধার ঘেঁষে দেওয়ালে পোস্টার লাগাতে থাকে ! বর্ষাতি গায়ে গোলাপি ঠোঁটে গলি-ঠিকানা ফেরি হতে থাকে । পান-সুপুরি ভাগ করা ডেরিভেটিভ দৃষ্টিতে চায়ের দোকানে সন্ধ্যে নামে ॥

২.
বাড়ি ফিরতেই পেট ভরা মিথ্যে বলে রাত বালিশকে ঘুম পারাই । পা টান-টান করা গাছের টবে একমুঠো ডিপ্রেশন ছিটিয়ে চলি ; ব্যাগে লুকোনো নীরার ঠিকানায় একবার চোখ বুলিয়ে তোমার রিখটারে নিজের স্কেলিটন ছুঁড়ে দিই ! মধ্যরাতে ভীষ্ম এসে ক্লান্ত শরীরে শর বুনে চলে ; রাতকপালে লাল টিপ পরিয়ে , বেআব্রু সত্তা অজান্তেই ভীষ্ম-হাতে নন-ভার্জিন হয়ে ওঠে । পরদিন আবার বাসন্তী শাড়ি জড়িয়ে -- ঝোলা
কাঁধে নীরার গলি হাতড়াই ॥


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন