সার্চ করুন

বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৭

সোমনাথ সাউ


শীতকাল আসছে

সোমনাথ সাউ



একটা কাক কিংবা কোকিলের ছানা

নড়ছিল গাছ

একটা হরিণ ও হরিণী আসে

বরফে চাপা পড়ে আছে সমস্ত চিরহরিৎ পাতা

সম্পর্ক গড়িয়ে পড়ে

শূন্যতার মাঝে অশূন্যতার সুতো দিয়ে যেখানে লাট খাওয়া ঘুড়ি ওড়ে







 জুন সিরিজ থেকে





সঞ্জয় সোম

পবিত্র হাসি

সঞ্জয় সোম


আমাদের স্বপ্নের ভেতরে প্রকৃতপক্ষে তুমি
তোমার স্বপ্নের ভেতরে আমরা

অর্থাৎ আমাদের এবং তোমার স্বপ্ন
আসলে এক সরলরেখা বরাবর

শুনেছি, কানে প্রচুর অভিযোগ আসে
আমাদের স্বপ্নের না কি কোনও মাথামুণ্ড নেই?
কথায় নেই কোনও স্বপ্ন পূরণের কথা!!

আবার স্পষ্ট করি নিজের কথা
তোমার মুখে দেখতে চাই সত্যিকারের
                                      পবিত্র হাসি
আমাদের এ ছাড়া দ্বিতীয় কোনও স্বপ্ন নেই

আমাদের স্বপ্ন পূরণ আমাদের যৌথ যাপনের প্রতিজ্ঞা

তুমি দুবেলা দুটো খেয়ে পরে আছো
আমরা দুচোখ ভরে তাই দেখতে চাই

পলাশ কুমার পাল


ব্রেকিং নিউজ

পলাশ কুমার পাল


জানলাকে জাপটে সাপ
মেঝেতে বানের জল
তক্তাতে বসে কমিক্স শুনতে শুনতে

ফর্দরা বেড়িয়ে আসে পকেট থেকে...

দেয়ালে গোপহীন ঈশ্বর
হো হো করে হেসে উঠে বলে
'হ্যাপি নিউ   ইয়ার!'





শাসন


টিউমার যেমন
পানকৌটির মতো ডোবে আর ওঠে...

বত্‍সরান্তে দেওয়ালের রঙও

আঠালো জিভ লুকিয়ে আসন করে,
মা যদি বকে!

শ্যাওলারা পুকুরঘাটেতে ইয়ার্কি মারে
আর হাসে...

অভিজিৎ মন্না

দূরাকাঙ্খা

অভিজিৎ মান্না


দেবো বলে দাঁড়াইনি
যতটা দিয়েছি ঠোঁট খোলার আগেই
ভাবতে গেলে পিঞ্জর দুলবে ।
অনুভূতিহীন নির্ঘন্টে বাজবে
প্রাপ্তির সুখ-স্বাদ ।
চোখ বুজে নিকৃষ্ট কোনায় ছেটাবে
প্রশান্তির আমেজ ।
নেচে উঠবো না পরিবর্তিত ভঙ্গিমা দেখে ;
বক্রদৃষ্টির  জট খুলে রাখব তৃষ্ণাগুলি ।
হয়তো এরাই দেখাবে দিশা ।

তনিমা হাজরা

 প রি চ য়

 ত নি মা হা জ রা


ফাঁকা বাসে এক মাঝবয়সী মহিলা, জটাজুটধারী, গেরুয়াধারিণী,

 পাশের সিটে বসতেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে  বলেছিল, তুমি ভাগ্যবতী মা, এয়োতি স্বগগে যাবে,

 আমি আনমনা যুবতী , বাড়িতে অসুস্থ স্বামী,  আজ পাঁচবছর বিছানায় শায়িত,

 ওষুধ কিনে দ্রুত বাড়ি ফেরার তাড়া।

  পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয় নি।


দুরন্ত বর্ষণে বাসষ্টপে দাঁড়িয়ে রিক্সার অপেক্ষায়,

এক দুইবেণী স্কুলফেরতা কিশোরী এগিয়ে এসে নিজের ছাতায় রিক্সাষ্ট্যান্ড অব্দি পৌঁছে দিয়েছিল অঝোরধারায়।

পরিচয়  জিজ্ঞেস করা হয় নি।


দুরপাল্লার ট্রেনের এক অচেনা ষ্টেশানে এক বৃদ্ধা চুড়িওয়ালি কেন যেন ভালবেসে একটা

কাঁচের বালা  উপহার  দিয়েছিল, রেখে দিয়েছিলাম ব্যাঙ্গেল বক্সে,

পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয় নি।


কিশোরী বেলায়, ভীড় বাসে এক পারভার্ট আধবুড়ো বার বার তার গোপন অঙ্গ গায়ে লাগাবার চেষ্টা করছিল আমার শরীরে,

হিল জুতো দিয়ে তার হাওয়াই চপ্পল পরা পা নির্মমভাবে পিষে দিয়ে নেমে পড়েছিলাম  গন্তব্যের অনেক আগেই।

পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয় নি।


বছর খানেক আগে, কলেজ ষ্ট্রীট থেকে ফিরবো।  সেন্ট্রাল মেট্রো ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি।

 হঠাৎ এক মধ্য বয়স্ক টান মেরে আমার ব্যাগ হাত থেকে কেড়ে নিয়ে দৌড়। এক অচেনা যুবক দৌড়ে গিয়ে উদ্ধার করে এনে  দিয়েছিল ব্যাগ।

 পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয় নি।


তপন বাড়ৈ

হে সুদূর বাসিনী

তপন বাড়ৈ


হে সুদূর বাসিনী....

মন মন্দিরে তব চেতনা দিবস - রজনী   ;

ক্ষণেক্ষণে  কাকন ঝংকার নূপুরের ছন্দ দোল  ,

নিস্তব্ধতায় স্বপ্ন জাগরণ, শব্দের ডামাডোল   ;

অদেখা তব লাজুক ঠোট.. আলুলায়িত কেশ  ,

অন্ধ যেজন..আমিও তেমন খুঁজে মরি তব বেশ ।

রচিতে তোমার আপাদমস্তক.. রচিতে তোমার মন...

বেলার পরে বেলা ফুরায়,স্বপনে কাটে সারাক্ষণ  ।

অদম্য চিন্তা, অগোচর ভাবনা, তমসা সকাল-সন্ধ্যা ,

অহর্নিশ তোমায় করিতে সম্ভাষণ ব্যাকুল রজনীগন্ধা  ;

শূন্যতা আজও জড়ায়ে আমার মৌন মনকুঞ্জ ,

বিষাদে পূর্ণ প্রহর যেন মোর সকলই বিষাদ গুঞ্জ  ।

কাছে এসো সই দেখাদাও মোরে কাটাও চন্দ্রগ্রহণ ,

শিউলির সৌরভে হর্ষ দ্যুলোকে করিগো তোমায় বরণ ।

হে সুদূর বাসিনী....

স্নিগ্ধ প্রভাতে শঙ্খ ধ্বনি সাথে হও মনো-মোহিনী  ;

অগোচর যতো স্বপ্ন বিদায়ে গোচরে তব আলাপন.....

তিমির শ্রাবণ উড়েযাক সুদূর, প্রতীক্ষার হোক সমাপন  ।।




বিমল মণ্ডল

একলা অন্ধকারে

বিমল মণ্ডল


সন্ধ্যার আকাশে বহু নক্ষত্রের সমাবেশ

অস্পষ্ট ইশারায় হেঁটে বেড়ায়

কোথাও উদ্যাম নেই,আবেগ নেই

চিন্তা স্বপ্ন ভুলে-এই রাতের আকাশে

নক্ষত্ররা চুপি চুপি হাসে

এইখানে শ্রাবণ বাদলা রাতে

সবুজ ধানের গাছ একলা খেলা করে

অজস্র ব্যস্ত নি:সঙ্গতা-নিস্তব্ধতা ঠায় দাঁড়িয়ে

কৌতুকী আকাশ ম্রিয়মাণ


তবুও তুমি হাঁটছ একলা অন্ধকারে।