সার্চ করুন

শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৭

দেবযানী বসু


#----------লৌকিক মুকুর


জল শুধু উল্লেখ... উদ্বেগের কাছাকাছি ঘর
চোখে চোখে সিঁড়ি ভাঙা...কাঁচা মল্লিকা গানও স্থবির
ধরণী বয়ে নিয়ে চলেছে পিঁপড়ের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
আমরা পিঁপড়ে ভাগ ক'রে নিই মিলিয়ন মিলিয়ন
নদীদের ক্রশবর্ডার
গ্রামঘেরা পাথর...পাথরের জাতি জাতপ্রজাপতি
মধু কেন জমাতে শেখেনি


দীপায়ন কর্মকার


#----------এপিটোম

চাঁদের নগ্নতা লেগে আছে চিবুকে
নিশ্বাসে জড়িয়ে দুটো শরীর
জবুথবু টেনে নিক চাদর ।
কফিমাগ ।
সিগারেট ।
শেষ রাতে নিহত হয়েছে প্রেম
হারিয়েছে বৃষ্টি কণা ; শহর খুঁজেছে চোখ
আহত হয়েছে প্রেমিকা
মলিন হয়েছে দূরত্ব .....
চুপিসারে


কুমারেশ তেওয়ারী


দুটি কবিতা

#----------রং
   

রং সম্পর্কে কিছু বক্তব্য রাখব ভাবতেই

ক্যামেলিয়ন ও জলতরঙ্গের ঝাপসা বাদানুবাদ

গাছ ও পলিটিক্যাল স্ট্যাটাসের আপত্তি

কতটা জরুরি জন্মদাত্রীর গর্ভের অন্ধকার

যেখানে নুন্যতম আলোগাছ সংসপ্তকের

শঙ্খনাদগুলেকে অসম্ভব মার্জিত করে তোলে

রোয়াবের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা খোয়াব

দ্রুত ছুটে যায় সমুদ্রের কাছে

যেখানে সীগালের কান্না প্রকৃতপক্ষে আনন্দের সঙ্গে উৎসারের যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়

ক্যারেবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের এক অনালোকিত মেয়ে

যার রঙ সম্পর্কে ধারনা বলতে নাদান

অন্ধ খাদানের রোগগ্রস্থ সাপ ও শেকড়

আলোকে রেডিয়াম দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখে

গোলা পায়রারায় জানে প্যারাশুট থেকে

শেষবার কবে ঝাঁপ দিয়েছিল প্রিজমার মাতৃসদন

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

#----------পরম্পরা

ঘন অরণ্যের কাছে মাঝে মাঝে যাওয়া ভালো

গা-বমি ভাব সেরে ওঠে আর তালজ্ঞান থেকে

নিঝুমতা বেরিয়ে এসে ধ্যান করতে বসে বনস্থ পাথরে

আসলে অন্বেষণ নামক বিমূর্তটি

রাতদিন বাড়িয়েই চলেছে ডাল ও পাতা

নৃত্যবাসরে তৈরি করছে নতুন নতুুন নাচের মুদ্রা

সুতরাং লাউয়ের খোলা ফাটিয়ে একদিন

বেরিয়ে আসেই মেঠোপথ ও বাউল

তখন হিজড়েদের নাচের ভেতরেও খুঁজে পাওয়া যায়

শেকড়বাকড় ও ভিটেমাটির প্রকৃত সোহাগ

তালপুকুরে ভেসে থাকা হাঁসেরাও তখন চায়

কলসিতে ভরা কৈফিয়তগুলো ভেসে থাকুক

প্রাচীন পরম্পরার পা ধরে


মনোজিৎ দাস


#----------নয়না অকাদেমি


নয়নার গ্যারেজে তখন পিউমার সুর
নয়নার সারফেস ডেকে নেয়
যেখানে পাতা গজায় , এলিট নিকেশ
                        প্রবল হয়ে আসে

নয়ন ডাকে , আমি রিভিউ করি তার চোখ আর বুক
কনুইয়ের জেল্লা আর চুলের মসৃণতা

আমার আমার বোধ আর বিস্তীর্ণ হৃদয়ের কয়েক একর জুড়ে আজ
                        ' নয়না অকাদেমি '


তৈমুর খান


#----------অবগাহন

জলে নামব, নামবই জলে
জল যদি আজ কথা বলে
ভিজিয়ে নেব অশ্রুগান
কুড়িয়ে নেব অধরা স্নানগুলি

সকল কিছুর পরও সকল কিছু থাকে
খুঁজতে আসি তাকেই
জিজ্ঞাসা আর স্রোতের কাছে
মাথা নোয়াই
মাথা নোয়াই একান্ত নিভৃতে

যদিও আজ শূন্য জল, শুভ্র মেঘ
সবাই চলে গেছে
পায়ের চিহ্ন পড়ে আছে দিগন্তের পথে
ধুলো ওড়া রোদ্দুরের আগুনে তা কাঁপে

সেই আগুনও বৃষ্টি লিখতে জানে
সেই আগুনও খুঁজতে আসে হারানো শ্রাবণে


সঞ্জয় সোম


#----------মানুষের স্বর

আমি মানুষের স্বরের কাছে কানপাতি
প্রত্ন উচ্চারণ সেখানে জমে আছে

যখন চুপচাপ বসে থাকি
গাছের পাতা দেখি নতুন কুসুম দেখি
দেখি উড়ে যাওয়া বাদল মেঘ

কারা মুছে দিচ্ছে ও কীভাবে মুছে দিচ্ছ
                                    মানুষের স্বর
চেষ্টা করি বুঝতে

আমাদের শব্দ এবং শব্দের উচ্চারণ
পঙক্তির পর পঙক্তি সাজানো  বাক্ প্রতিমা নির্মাণ
আমরা ঋণ করেছি মানুষের স্বরের কাছে

মৃত্যুর পর কেউ কেউ দুদিন বেশি বাঁচে
কারওকে মরার আগে মৃত্যু টেনে নেয়

আমরা ঋণ শুধরোতে নিজের লেখা লিখি


আদনানুর রশিদ


তিনটি কবিতা

#----------ক্লোন


মাথার ওপর তেতলার ছাদ
পায়ের নিচে ফস্কে যাওয়া জমিন
চিলেকোঠার ঘুপচি তে
                               কবুতররঙা স্বপ্ন

হাওয়া
ভারী...


বৃষ্টির শহরে যাচ্ছি
বাসের জানালা খুললেই দমকা হাওয়া

পিছু তাকালেই মনে হয়...
         আমাদের থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে সভ্যতা


এখানে সবাই একরকম...
রক্তিম
ও বৃষ্টিস্নাত

প্রেমিক ও পরাজিত

কে কার ক্লোন বোঝা যাচ্ছে না ।



#----------দরোজা খোলা রেখো

তোমার চুলের খোঁপায় আটকে গেছি,
আর কিছুটা সময় দাও !
চলে যেতে যেতে আবার ফিরে আসবো...
                                      ফিরতেই হবে...

আমার মুঠোভর্তি স্বপ্ন
তোমার হাত ভর্তি চুড়ি,
তবু ছুটে যায় বাসের হাতল ;
তোমাকেও ওই নরকে থাকতে হবে না !
কোনো বিলাসিতা চাইনা,
তোমার বুকের ভাজে একটু ঘুম খুঁজবো ;

তাই আমাকে এখন যেতেই হবে ।।

অমরত্ব ডাক দিয়েছিলো ;
আমি যাইনি
এসেছি তোমার কাছে
তাই আড়ালে যেওনা
ফিরতে দেরী হলে
                       দরোজা খোলা রেখো !



#----------কুয়াশাহীনতা

ওভাবে ঘুরে দাঁড়াবে না ।
ঘুরে দাঁড়ালেই দেওয়াল থেকে খসে পড়ে
প্রতিবাদী কান...
                            পালক ।
রঙমহলে ঝাড়বাতি নেই
কোনো উল্লাস বেয়ে পড়ছে না  ।
কাটাকুটি ভরা ব্যবচ্ছেদ স্ট্রেচারে তুলে
জ্বালানো হবে মশাল ।
তারপর শুরু হবে অলিম্পিকের আততায়ী দৌড়

প্রয়োজন হলে সেলফোনে
হতাহতের খবর নিয়ো

কিন্তু...
পিছে ফিরে তাকাবে না,
কুয়াশাহীনতা ভালো
তবে...
চোখেরজল ওতোটা স্বচ্ছ দেখাতে নেই !


ঐন্দ্রিলা মহিন্তা


তিনটি কবিতা

#----------খনিজ

ভোররাতের গোলাপ । বৃষ্টিঘুঙুর জড়ানো । হাতে গুপ্তধনের চাবি । ম্যাপ মরুভূমিতে শায়িত । স্কুটার চালিয়ে বার বার ঘুরে আসি ;
তবু তাদের দেখা মেলে না ॥

কালগর্ভ চিরে আর্তনদের দলাপাকানো জটলা । একটা মরে যাওয়া দুঃখ মদের গ্লাস টেনে নেয় ॥

মরুভূমির ড্রয়ারগুলো হন্টেড । তাদের কবর খুঁড়ে চিঠিগুলো টেনে বার করে কুড়োতে থাকি !
..............এক...........দুই.........॥

এতদিনে চিঠিগুলো জাতে উঠলো । শুকনো গোলাপকে  পাখনা মেলে উড়তে দেখে মৃত ড্রয়ারগুলো চোখ মোছে ॥

শতাব্দী পেরিয়ে আত্মজা খনিজের হাউই চরে , সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসে.....  চশমার কাচ ঝাপসা হয় তাদের ফর্মেশনে ॥

             

#----------লুপ্তযুগ

ছাদ থেকে একটা করে বর্ষা চুঁইয়ে পরে ,
আর একটা করে যুগাবসান দেখে চলি !
আমার চোখ চেপে ধরে কানে গুপ্তমন্ত্র
ঢেলে দাও ; লবণাক্ত সমুদ্র ঢেউয়ের
শব্দ যাতে শুনতে না পাই : নিকষ
অন্ধকার করে যে চড়ুই ঘরে উড়তে
থাকে , তার প্রত্যেকটা পালকে আমাদের
সমুদ্র-স্নান লিখে রাখো ! ক্লান্ত ডানা ঝাপটিয়ে
বাড়ির ছাদে নিজের কঙ্কাল দেখে আসে ......
না ! আজ সে বড় ঋনী তোমার কাছে ;
গোপনীয়তার সেলুলোজ ছিঁড়ে তাকে
আর পেটভর্তি সান্তনা খেতে হবে না ,

লুকিয়ে দেখেছি :
তখনও তোমার চোখে মৃত যুগগুলি বন্দি ॥
       
           

#----------কন্টিনিউয়েশন

১.
রোজ ভরদুপুরে ঝোলা কাঁধে বেরিয়ে পড়ি ; একটা
করে গলি , আবিষ্কারি মণির ধার ঘেঁষে দেওয়ালে পোস্টার লাগাতে থাকে ! বর্ষাতি গায়ে গোলাপি ঠোঁটে গলি-ঠিকানা ফেরি হতে থাকে । পান-সুপুরি ভাগ করা ডেরিভেটিভ দৃষ্টিতে চায়ের দোকানে সন্ধ্যে নামে ॥

২.
বাড়ি ফিরতেই পেট ভরা মিথ্যে বলে রাত বালিশকে ঘুম পারাই । পা টান-টান করা গাছের টবে একমুঠো ডিপ্রেশন ছিটিয়ে চলি ; ব্যাগে লুকোনো নীরার ঠিকানায় একবার চোখ বুলিয়ে তোমার রিখটারে নিজের স্কেলিটন ছুঁড়ে দিই ! মধ্যরাতে ভীষ্ম এসে ক্লান্ত শরীরে শর বুনে চলে ; রাতকপালে লাল টিপ পরিয়ে , বেআব্রু সত্তা অজান্তেই ভীষ্ম-হাতে নন-ভার্জিন হয়ে ওঠে । পরদিন আবার বাসন্তী শাড়ি জড়িয়ে -- ঝোলা
কাঁধে নীরার গলি হাতড়াই ॥


বিকাশ চন্দ্র বর্মন


দুটি কবিতা

#----------রেমিশন বিয়ে

আরশোলার ট্রাকিপয়েন্ট ক্রশেই
জোনাকিরা খুলেছে ধারাপাত
মাছ ও বিয়ের মরশুম
পাখিরা কুড়িয়েছিল বৌ- ভাত

এক্সরেতে ফোঁটেছে বৃষ্টিদানা
গাছ ও মাটির জেরক্সকপিতে
তালমিছরির শ্যাম্পনি
যেখানে অর্ধেক হয়েছিল ১১০৮ ভাদুরি মশায়

কেঁচ্চোর কচি স্টলে
ঝুলে থাকা স্যোসালিস্ট
ক্যাপিটাল দিনের জিহ্বায়
বৌভাতের বর্ণগুলি শূয়ে সুয়ে

ঘুগরির স্টুমেন্টাল,
রেমিশন নামিয়ে,
হাফপ্যান্ট পরা কুয়াশা
বিয়ের ক্যাপসুল দিয়ে যায়।

সাতশত পাকখাচ্ছে পিথিয়াস ও ড্যামন
উড়ে যাচ্ছাে মোটা মোটা শনিবার,
লকলাইন জুড়ে একলক্ষ রাত্রিফল
তবু আজ বিয়ের চারা হলো না।।

#----------পৌলাশ রোদ্রু

ঘামের ভিতর সমুদ্রশ্বাস ঢেলে
ভেঙ্গে দিয়েছি কঙ্কাল রক্ত
সঙ্গে পৌলাশ ও তপোবন
হূর হার কুয়াশার শিলান্যাস
হরিণী ফ্যানার বাতাস
ঢেউ দরোজা খুলে
ভাঙা আহারের গন্ধ কুড়িয়ে নেয়

প্রতিফলিত সিঁগারেট ধোঁয়া
আত্মীয় হরিনের প্রিন্টকপি
ফ্যানায় জমা নেই হোয়াইট হাউসের ঠিকানা
চোখে হারমোনিয়াম ফুঁটিয়ে
অপেক্ষায় ছিল শীতরাত্রি
যেদিন সাদা বেনারশি পরে পড়ে আসবে
ঝুলে পরেছিল মেঘেদের স্টেশন
তবু তরাজ সইল না ঘোমটা খুলতে ।

মাদুর পড়ে রাখেছি--------
শীতরাত্রি,
জিবি ভর্তি কুয়াশা লিখে যাবে
বর্ণের কথা বললে
লম্বা হয়ে যাচ্ছে রোদ্রু,
গ্রহন পেড়িয়ে আসছে লণ্ঠন বিয়ের গন্ধ
স্নান ধরেছি তাদের।


আলামিন ইসলাম


#----------এক টুকরো প্রার্থনা ...


পেরিয়ে গেছে রাত ,
এখন ফর্সা সকাল আমার গ্রহের উঠোনে ৷
আর জল ভর্তি করছি   শুকনো হৃদয়ের ট্যাঙ্কে.....
একটু প্রাচীন  জলতরঙ্গের গান শুনতে চাই আমি৷
এই শুষ্ক সাহারার উপত্যকায় বয়ে যাক এক শীতল অনুভূতি,
আর এক প্রস্থ মেঘ ভিজিয়ে দিক্ আমার
অপেক্ষার স্টেশনে !


সত্য রঞ্জন বণিক


#----------অবৈধ সন্তান

তখন ঘড়িতে প্রায় বারোটা।
অনাথ শিশুটি বৈশাখের কাঠফাটা রোদ্দুরে ঠায় দাড়িয়ে,
হোটেলের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্টের প্রতীক্ষায়।
হ্যাঁ, হোটেলের উচ্ছিষ্টই ওর বেঁচে থাকার একমাত্র রসদ।
শহরের ডাস্টবিন ছিল আঁতুড়ঘর।
রাস্তার কুকুরের মতো উচ্ছিষ্ট খেয়েই বড় হওয়া।
হয়তঃ চরিত্রহীন কোন নারী পুরুষের অবৈধ সম্পর্কে
ওর জন্ম এবং নিক্ষিপ্ত আবর্জনার স্তূপে।
প্রকৃতির প্রতিকূলতার ছোবল
আর ক্ষুধার্ত জঠরে ক্ষুধার সন্ত্রাস নিত্য সঙ্গী।
ক্ষুধার জ্বালায় ক্ষয়ে ক্ষয়ে শীর্ণ শরীর,
নিশ্চিত ভাবে প্রমাণ করে ওর বুভুক্ষু সমাজের নাগরিকত্ব।
আজ মাতৃ দিবস!
হয়তঃ আগামীকাল পিতৃ দিবস!
এবং আগামী পরশু সন্তান দিবস!
পিতা, মাতা এবং সন্তান তিনটি শব্দই
শিশুটির জীবনের অভিধানে বিলুপ্ত।
মাতৃহীন পিতৃহীন ও এক অনাথ শিশু।
ডাস্টবিনের পচনশীল আবর্জনার স্তূপে
ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়ায় হয়তঃ ওর জন্ম!
বিন্দুর মতো দৈঘ্য, প্রস্থ এবং বেধ মাত্রাহীন
অবস্থিতির মতোই ওর কাছে পিতা মাতার অস্থিত্ব।
হয়তঃ এই ভাবেই অবৈধ সম্পর্কে জন্ম নেবে
আরো শত সহস্র কোটী অবৈধ সন্তান,
আর গোড়াপত্তন হবে অবৈধ সন্তানের
এক নতুন মহাদেশ।              


পাপাই সেন


#----------আমি নেই

বেঁচে আছি ওই কোনো একরকম ,
শীতঘুমে শুয়েছে আমার হৃদয়
আমি নিপীড়িত অজ্ঞাত অবহেলায়,
দুঃখ দাঁড়িয়েছে এসে আমার আঙ্গিনায় ।

শুয়ে আছি ঘাস জমিতে
অগণিত বৃষ্টি ফোটা ঝরে পড়ছে,
সব পাপ মুছে দেবে তাই ;
আমি চাতকের মত আছি অপেক্ষায় ।

গল্প আমি শুনেছি অনেক ,
জানি অনেক মৃত্যু ছিল ইতিহাসে ,
আমি দেখেছি সেই সমস্ত সব
পাহাড় স্বরূপ অন্ধকার চোখে চাপিয়ে ।

সমস্ত কূল-কিনারা হারিয়ে আজ
আমি অসহায় বড় অসহায়
সাগরের বুকে দাঁড়িয়ে ,অগাধ জলে ,
একটা হিংস্র হাঙরের সম্মুখে ।


বশিরুজ্জামান


দুটি কবিতা

#----------গহীনে নৈঃশব্দ্য

ভেঙে গেছে নির্মিত স্বপ্নের রঙিন প্রাসাদ
শিশিরের মতো ঝরে গেছে অপূর্ণ ইচ্ছেরা
শুঁকিয়ে গেছে হৃদয়-চরের তৃষ্ণার্ত নদী
অনাগত জীবনের ভুল হিসেব কষে কষে
বাষ্প হয়ে উড়ে গেছে হাতে-বাঁধা সময়।
একদিন শ্রাবণের কালো মেঘের মতো
মনের আকাশেও জমাট বাঁধে দুখের মেঘ।
মেঘগুলো কখনো গর্জে উঠে দুঃস্বপ্নের মতো
কখনো বা নয়নশ্রু হয়ে ঝরে ফোটায় ফোটায়।
এই দুঃখ ভরা জীবনে আর বাঁধা হয়নি ঘর
কুঁড়াইনি ঝরে পড়া ইচ্ছের রঙহীন পাপড়ি
শুঁকিয়ে যাওয়া নদী আরো বেশি শুঁকিয়ে গেছে
ভুলই থেকে গেছে জীবনের ভুল হিসাবের খাতা।
কষ্টকাতর স্মৃতি বুকে আজও বেঁচে আছি
গহীনে একপৃথিবী শূন্যতা নীরবে ঘুমায় তারও আরও গহীনে জেগে আছে নৈঃশব্দ্য
আত্মা ও সময়ের আধ্যাত্মিক সুনিপুণ খেলা
তারপর সময়ে জীবন বিস্বাদের হয়ে এলে
ক্লান্ত ঘোড়ার মতো আঁধারে ঝিমায় সারারাত।

#---------কিছুই নেই আগের মতো

কিছুই নেই আগের মতো সবই বদলে গেছে
নিত্যদিনের চেনা সূর্য; সুগন্ধ মাখা ভোর,
পরিচিত পাখির কোলাহল; অলস দুপুর।।

বদলে গেছে সবুজ মাঠ; সুনীল আকাশ,
দুর্গন্ধে মিশ্রিত এখন হেমন্তের শুভ্র বাতাস।
বদলে গেছে নদী; সমুদ্র সৈকত, নীলদরিয়া
বদলে গেছে মানুষ; মানুষের কোমল হিয়া।।

কিছুই নেই আগের মতো সবই বদলে গেছে
সবুজ শ্যামল গাঁ; মাটির দেয়াল, ছনের বাড়ি,
সদর সিঁড়ির পুকুর, পাতকুয়া, গরুর গাড়ি।।

বদলে গেছে নান্দনিক উৎসব বৈশাখী মেলা
পাখিদের উড়াউড়ি; গোধূলি বিকেল বেলা।
বদলে গেছে চশমার ফ্রেম; কাপড়ের রং,
বদলে গেছে ভাতের পাতিল, মাচা ও টং।।

কিছুই নেই আগের মতো সবই বদলে গেছে
সুখের আশা নিয়ে গেছে দুখের রেলগাড়ি
বিস্মৃত স্মৃতিবুকে শুয়ে আছি স্বপ্নের ভাঙাবাড়ি
মৃত্যুডাক শুনবো বলে আজও আছি বেঁচে!


গোবিন্দ সরকার


#----------একেই কি বলে প্রেম?
             

তোমার আরো একবার স্পর্শ পেলাম;
পেলেম প্রেমের ছোঁয়া।
প্যান্ডুলামের মতো সজোড়ে আঘাত,
হৃদয়ে প্রবল নাড়া----
গা ছমছম,শরীর শিরশির করে।
সেই স্পর্শ,সেই ছোঁয়া;
সেই বেদনাহত অনুভূতি
হৃদয় হতে চক্ষু দিয়ে
চোখের জল হয়ে পড়ল নেমে।
তবুও সেই অশ্রু আমার
মনের মিউজিয়ামের রত্ন,
প্রেমের পাওনা বলেই মনে হয়।

একেই কি বলে প্রেম?
যা দুঃখকেও প্রেমের আঙ্গিকে বদলে দেয়,
কষ্টকেও প্রেম বলে মানে;
কুৎসিত কেও ভাবে সুন্দর।
ছোটে যেতে চায় বারবার
তার নরম হাতের ছোঁয়া পেতে,
যার ওষ্ঠে সৃষ্টি হাতছানি দেয়;
চোখের চাহনিতে প্রেমের মেলবন্ধন।
গায়ে লেগে থাকা মাটির সোঁদা সোঁদা গন্ধ,
আচ্ছা!মাটির সাথে প্রেমের কী সম্পর্ক?
আমিতো  সবুজ অবুঝ
প্রেমের মানে জানিনা,
তাই প্রত্যাশিত আমি
তোমার উত্তরের অপেক্ষায়।


শান্তনু মণ্ডল


#----------আশার ফাঁদে

কি কথায় দেরি হয়ে যেতো
যাই বলে হতো না যাওয়া
পা উঠেও থেমে থেমে যেতো
আর কবে হবে কাছে পাওয়া l

ক্ষণিকের মিলনের পরে
বিরহের জাগে অমরতা
তোমা আমা সন্ধিক্ষণ মাঝে
সময়ের দীর্ঘ কপটতা  !

গায়ে মেখে আলিঙ্গন ছাপ
উভয়ের প্রেম স্মৃতি মায়া
অতৃপ্ত প্রাণের সন্তাপ
আর কবে হবে কাছে পাওয়া  l


বিমল মণ্ডল


#----------অনামিকার ঘরে রাত্রি

শান দেওয়া এক পাড়া গাঁয়ের মেয়ে অনামিকা

কথা বলে উঁচু গলায়,হাসে না সেই ভাবে

কানের অদ্ভুত-গড়ন দুলজোড়া দুলে

ডিগবাজি খেয়ে কাঁধের আনতিতে ফুটে উঠে যতি,কমা,কোলোন ,জিজ্ঞাসা চিহ্নের স্পষ্ট প্রকাশ

অনামিকা নিজেও জানে শাড়ীতে তার বাতাস খেলে

অনাস্বাদিত পূর্ণ জীবনে ধোঁয়ায় অদম্য পিপাসা

কাজের খুশিতে এক বিশ্বাসী পুরুষের আলাপ

ছিল প্রাণরসের অফুরন্ত চিহ্ন

অনামিকা হৃদয় দিয়ে বুঝেছিল একটা প্রহর ধরে

বিশ্বাসের পালাবদল ঘটে,

নতুন সুরে ভেসে আসে ভালোবাসা সন্ধ্যাবেলায়

আজকের রাত্রির সুর

বাইরের আকাশে গুরু গুরু শব্দ

অনামিকার ঘরে রাত্রি আবার ফিরে আসে।


রণজিৎকুমার মুখোপাধ্যায় 


#----------কৃচ্ছসাধন

তুমি দোষ করলে
ধরি না দোষ রমণী বলে ,
ক্ষমা ও করে আর সকলে ।
অথচ আমি কোন কসুর করিনি বাগান সাজাতে ।
রোজ জল ঢালি গাছের মূলে ,
পাছে নেতিয়ে না পড়ে দেহবল্লরী ।

তুমি আসবে বলে
এত আয়োজন , এত স্বেদ ঝরানো ;
কতবার বলেছি কোন ফুলে তুষ্ট তুমি ,
জবা ,চাঁপা , পদ্ম না কিংশুক ?
আমি সেই ফুলের চাষ করবো বাগানে ।
তুমি অবজ্ঞায় নিয়েছ মুখ ফিরিয়ে ,
তুলেছ ঝড় , বাগান করেছ তছনছ ;
আমি দিনের পর দিন সহ্য করেছি নীরবে

কেউ দোষ ধরলো না তোমার ,
তুমি কান্না দিয়ে আদায় করেছ সমবেদনা ।
অনেক খরচের পালা শেষ করে
যখন দরজায় এঁটেছি খিল
তখন দুয়ার ধরে কাঁদলে তুমি ,
ওরা সকলে বলল, নির্দোষ নও তুমি ,
অথচ আমি তোমার জন্য করে গেলাম
আজীবন কৃচ্ছসাধন ।


সৌম্যকান্তি চক্রবর্তী


#----------পুনরাবৃত্তি

স্বাধীন দেশের অসহায় নাগরিক ...
জানে না কোনটা ভুল কোনটা ঠিক ?
সরল বিশ্বাসে ,কারো দেওয়া আশ্বাসে ..
জীর্ণ শীর্ণ প্রত্যাশা নিয়ে
দেশের শাসক বাছে !

কে জানে তাদের পাশে ..
দীর্ঘনিশাস পড়ে আছে !
বানভাসি বিশ্বাসের
ভরসার সলিলসমাধি ...
কারোর পৌষমাস ..
কারো সর্বনাশ ...
আশায় দুঃখ নিরাশায় শান্তি ..
এই প্রবাদের পুনরাবৃত্তি !


শ্রদ্ধা চক্রবর্তী


#----------তপ্তপ্রান

মরুভূমির বালিরা তো

        হাওয়ার দাপটে ছত্রভঙ্গ

সঙ্গীহীন |

         তৃষ্ণা বুকে নিয়ে..

কেউ কি ফিরে যায়..!

          তার তপ্ত হৃদয়ের আঙিনায়,

দুঃখ মোছাতে.?

              তুমিও আজ অচেনা হয়ে যাও

চেনা মরুপথের কিনারা হতে |

               এই একাকী দিশাহীন মরু

আজ........স্তব্ধ-নির্বাক,

                কতবার আর ফিরে যাবে

ঐ ভ্রুকুটির দরবারে.?

                 এক্সপ্লেনেশনের রুট ধরে.!

তপ্ত হাওয়ায় কষ্ট হবে,ফিরে যাও

                 বুঝে নিও শুধু তোমার টা

ঝড়কে  আমি  সামলে  নেব  ||


স্বপন কুমার রায়


#----------আমার বিশ্বাস
           

তোমায় ভালোবাসি সে কথাই বলতে এসেছি
তুমি বিশ্বাস করো আর নাই বা করো !
এতোগুলো বছর পরেও আমার হাতের মুঠোয়
        এখনও সতেজ স্বেত গোলাপ  |

আমি কখনও সীমান্ত পেরিয়ে বিভূঁই হতে চাইনি
শহীদ বেদিতলে শতসহস্র ফুলের মধ্যে
           আমারও একটি ফুল!
      ম্লান জোছনার আলো গায়ে মেখে
আগষ্টের দক্ষিণা সমীরনে ফুঁড়ে ফুঁড়ে মেজাজে,
           " ও আমার দেশের মাটি
          তোমার পায়ে ঠেকাই মাথা ---------"
গুণ গুণ করে হাঁটতে হাঁটতে,গভীর অন্ধকারে জোনাকির আলোতে নিজেকে খুঁজি ;

      তারপর,অতীতের পাতাগুলি উল্টে পাল্টে
       তোমায় ভালোবাসার মুখ গুলো দেখতে থাকি , যেমন করে প্রেমিক তার অ্যালবামের তিতিধরা                         মুখগুলোর মধ্যে খুঁজে পায় অতীত স্মৃতি ;
 

ইদলফেতর ,বড়দিন ও শারদীয়ায় নতুন পোশাক পরে
           ভালোবাসা জানান দেই ,
     যে রকম নদী ভালোবাসে সাগরে মেশে
       শান্তি খুঁজে পায় কবরের মাটি
        অরণ্য ভালোবাসে বৃষ্টি
       শিশু খুঁজে নেয় মায়ের স্নেহাঞ্চল
এরকম ভালোবাসার অন্বেষনে শ্মশানের ধোঁয়াতে ঈশ্বর
দেখি ,
             এটাই আমার জন্মভুমি |

বিশ্বাস করো ,জবলার মেয়েটি স্বাধীনতার ইতিহাসে
কলকাতা মহান হত্যাকান্ড আতঙ্ক নিয়ে পড়ে,
           আমি সেদিনও খুব কেঁদেছি !
বিশ্বাস করো,পরের বছর মধ্যরাত্রি তোমার জরাসন্ধ      জন্ম আজও মানতে পারিনি |
হরিণ ভেজা চোখে বর্শা নিক্ষেপ করা মুখগুলো কতটা
               ----------  নিষ্ঠুর !
        খাগরাগড় , বারাসত থেকে দার্জিলিং
         কোথায় ভালোবাসা খুঁজে পাইনি,
           -------------- কি অসহ্য !
               তবুও তোমার চোখে জল আসেনি
দেখেছি,যেন শিরাকাটা ফিনকি রক্তে তোমার চোখে
                 -------- রক্তবৃষ্টি !
             তোমার বুকের উপর বসে
      যেন পবিত্র ফুলে অবিরত কীট দংশন |
            ভয় পেয়োনি,স্বতন্ত্র প্রহরী আমরা
            আম্মা বলে যে ডেকেছি আমি |
তোমায় ভালোবাসি সে কথাই বলতে এসেছি
তুমি বিশ্বাস করো আর নাই বা করো !


দীপ মণ্ডল


দুটি কবিতা

#----------মুক্তি

গ্রীষ্মের দাবাদহের মত অনেক জ্বালিয়েছি তোকে

তবে আর নয় তোরই হোক মধুমাসের শেষে জয়

আজ মুক্তি দিলাম তোকে  হাসি মুখে...

তোর ওষ্ঠ অধরে একটু হাসি দেখবো বলেই

আমার নয়নদুয়ারে জল আসেনি

কিন্তুু কণাগুলি বিন্দু বিন্দু জমা হয়ে বেদনায় পূর্ণ

আজো হৃয়দের কোণ...

তোর প্রতি অধিকার টুকি ও শূন্য করে নিলাম

তবে দাগি স্মৃতি গুলি নব-যৌবনে চাপা দিস

যদি স্বপ্নের দলগুলি কখনো হানা দেয়

তুই শুধু বলিস। নিদ্র-বিনিন্দ্রা বিভোরে স্বপ্ন শুধু একটি

অলৌকিক কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়

এটাই বাস্তবিকতার আধুনিক বাস্তব

আজ আমি পথভোলা এক যাযাবরের মতো স্বাধীন...





#----------অব্যক্ত ইতিহাস

আমরা শুধু অট্টালিকার

                    চার দেওয়ালের সৌন্দর্যই দেখি,

কিন্তুু পিঠে কাঁপড়ের আঁচলে বাধা শিশু

              কাঁচা ইঁট তৈরি করে কে ?

ঐ সাঁওতালীনি রমনী

                     বা বিহারী রমনীর

অব্যক্ত ইতিহাসের খোঁজ কি?

          কখনো রাখি।।


সুকান্ত পাল


#----------চিরকুট { প্রেয়সীর জন্য )

আজ আরও একবার ধুলো পড়া ডাইরির পাতা খুলে,
তোর দেওয়া রক্ত গোলাপে তোর স্পর্শ অনুভব করলাম!
পাতার পর পাতা রঙিন শব্দে বন্দি ভালোবাসায়,
তোকে কলঙ্কিনী রাধা রূপে দেখলাম !
তাৎক্ষণিক মনে হল মান অভিমানের পালা শেষ,
এবার শুধু ভালোবাসা আর ভালোবাস!
কিন্তু বাস্তবতা যখন চোখের সামনে ভেসে উঠলো,
তখন বুক জুড়ে শুধুই নিরাশা আর হাতাশা,
আমার সমস্ত সুখ স্মৃতিকে ক্রমশ গ্রাস করে,
মরুভূমির মরিচিকা করে তুলতে চাইলো!
তাই বিলীন হয়ে যাওয়ার আগে এই সামান্য চিরকুটে,
আমার সকল সুখ স্মৃতি তোর জন্য বন্দী রইল।
কোনদিন যদি ফিরে আসিস এই নষ্ট নীড়ে, সেদিন নাহয় খুলে দেখিস,
বুঝবি রে সখি সেদিন, প্রেম যাতনা কাকে বলে।
দেখতে পাবি কত অন্যায়কে প্রশয় দিয়ে,
আমাকে ভেঙেচুড়ে তুই গিয়েছিলি চলে,
জানি সেদিন তোর আমার জন্য অনুশোচনা হবে,
নিজেকে বারবার অপরাধী মনে হবে।
ইচ্ছে হবে হেমলোকির সন্ধানী হয়ে,
আর একটা শ্মশানমুখী লাশ হয়ে শায়িত হতে এই ভবে।
না সখি না! ভালোবাসা তো মরণেই শেষ নয়,
তবে কেন আরও একটা অন্যায়কে প্রশয় দেওয়া ?
ভালোবাসা তো ব্যাকুলতার মাঝে অকুলতা,
অন্তর আত্মার সাথে পরমাত্মাকে কাছে টেনে নেওয়া !
তাই যদি পারিস এই চিরকুটে বন্দি ভালোবাসা নিয়ে,
আরও একটি প্রাণের জন্ম দিতে, আরও একটি মানুষকে সুখ দিতে,
তবেই বুঝবো সখি ভালোবাসা কারে কয়।
ভালোবাসা হয় অন্তরে, দুটো শরীরের মিলন নয়!


জয়ন্তী সরকার


#----------আশা
   

স্বপ্নগুলো দেখতে দেখতে হলাম আমি বড়ো,
এখন আমি বাঁধন হারা ছিন্ন পাখির মতো।
অনেক কিছু করছে আশা বাবা আমার কাছে,
পারছিনা;-মায়ের মনের মতো লক্ষ্মী মেয়ে হতে।
ঠাম্মা বলে,"হাতে আমার শ-পাঁচেক দে",
দাদু বলে,"মাস পেরোলো চায়ের বিলটা দে।"
এরই মধ্যে হাজার আশা আছে আমার মনে,
কি করে যে পূরণ করি উপরওয়ালাই জানে।


পায়েল খাঁড়া(স্বত্ত্বাধিকারী)


#----------পবিত্রতা

পবিত্রতা কী?
ওহে তার্তিক সমাজ,প্রশ্ন রাখছি আজ তোমার দরবারে,
বল, পবিত্রতা আসলে কী?
সে কি শুধু শরীরেই বর্তায়?
বাঁচার তাগিদে যে মেয়েটা বেচল শরীর,
বুক ঠুকে করেছ যার ‘পতিতা’ নামাঙ্কন,
তবে তার আঙিনার মাটি’ই কেন অপরিহার্য দেবীপ্রতিমায়?
বল তো শুচি কে—সুখী গৃহকোণের আড়ালে যে মাতছে পরকিয়ায়;
নাকি সেই জঠরচ্যুত সদ্যোজাত,
অবৈধ সুখের ইশাদী হয়ে ঠাঁই পেল যে পোড়ো নর্দমায়?
তাচ্ছিল্য করে ডেকেছ যাকে জারজ সন্তান
নাটুকে দয়ার উচ্ছিষ্ট ছুঁড়ে মুখ ফিরিয়েছ ঘৃণায়!
সভ্যতার আবর্জনা সাফ করতে যারা খাটছে দিন-রাত
কোন শাস্ত্র বলে অপবিত্র ওরা, ছোটো নীচু জাত!
ধৃতরাষ্ট্রের ঠুলি খুলে একবার দাঁড়াও তো সমাজ হাতে নিয়ে মাপকাঠি,
দেখ তো মেপে পবিত্রতার নিক্তিতে কাদের পাল্লা ভারী?
যারা ধর্ম কর্ম বংশপরিচয়ের ঊর্ধে শুধুই মানুষ—
নাকি রাম-রহিমের নামে যারা লাগায় আগুন ঘটায় কাটাকাটি!


মহঃ আসিফ ইকবাল



#----------শান্তি মিছিল

জ্বলছে যখন ভালবাসা হিংস্রতার আঁচে
পুড়ছে যখন তোমার আমার ঘর-বাড়ি
রাক্ষসেরা ব্যস্ত যখন রক্তখেলার নাচে
তখন আমরা কি আর চুপ থাকতে পারি?

কি তোমার ধর্ম, কি তোমার জাত
                 এত ভাবার সময় কই?
রাস্তায় নেমেছি করতে প্রতিবাদ।
এস সকলে মিলে আমরা এক হই।

বুকে নিয়ে ভালবাসা রাখী বাঁধি হাতে
'বিভেদ' শব্দটা মুছে যাওয়াই ভালো।
তুমি, আমি সকলে মিলে  একসাথে
        এক সুন্দর পৃথিবী গড়ি চলো।

এস হাতে হাত ধরি, ভেবোনা আমরা জনা কয়েক
আমাদের এই শান্তি মিছিল বার্তা ছড়ায় অনেক।।


উজ্জ্বল দেবশর্মা


#----------কবি পামর

প্রশ্নটা ছিল পামর তুমি
তখনেই ঘুঘু পাখি ডাকে
পামর।
কবির কলমটা ঘুরে গেল
লেখা পড়ার খাতায়।।
বকগুলি মাছ ধরে
ক্লান্ত দেহে পালক মেলে
চঞ্চু দিয়ে পালকের জল বিন্দুর
বিচার করে।
পামর আমি মাছ ধারি
হাই তুলি  কবি সুুরা পানে
পামর হলি।